চিত্র বিচিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিত্র বিচিত্র লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১২

অ্যাডোনিসঃ প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি যার সৌন্দর্যে অন্ধ হয়েছিলেন !

Justify Full


Justify Full

গ্রীক পুরানে বর্ণিত সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় পুরুষ হলেন অ্যাডোনিস। তার সৌন্দর্য এতোটাই বেশি ছিল যে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি পর্যন্ত তাকে ভালবেসে ফেলেছিলেন।
গ্রীক পুরানে বর্ণিত অ্যাডোনিস ও দেবী আফ্রোদিতি এর কাহিনীটি তাই বেশ জনপ্রিয় এবং বিয়োগান্তক ও বটে।



সুপুরষ অ্যাডোনিস এর পরিচয় দেয়া যাক। যদিও এটা কিছুটা বিব্রতকর , তবুও বলতে হয় অ্যাডোনিস ছিল মিরহা এর পুত্র, এবং অ্যাডোনিস এর জন্ম হয়েছিলো একটি পাপ এর পরিনতি হিসেবে। মিরহা ছিল রাজা থিয়াস( আরেক নাম সিনিরাস) এর অনন্য সুন্দরী কুমারী কন্যা। মিরহা এর সৌন্দর্য নিয়ে তার পিতার বেশ গর্ব ছিল। এমনকি তিনি মনে করতেন তার কন্যা সৌন্দর্যের দেবী আফ্রোদিতি এর চেয়েও বেশি সুন্দরী। আফ্রোদিতি অবশ্যই থিয়াস এর এই মনোভাব মেনে নিতে পারেন নি। তাই তিনি কন্যা মিরহা এর অন্তরে তৈরি করে দিলেন তার নিজেরই পিতার জন্য কামনার আগুন, যেটা থেকে শেষ পর্যন্ত মিরহা বের হয়ে আসতে ব্যর্থ হয়। দাসীদের সহযোগিতায় বেশ ছলনার সাহায্যে নিজের পরিচয় গোপন রেখে রাজা থিয়াস এর সাথে মিরহা মিলিত হয়, যার ফলাফল হিসেবে মিরহা এর গর্ভে আসে একটি সন্তান। রাজা থিয়াস যখন বুঝতে পারেন যে যার সাথে তিনি মিলিত হয়েছেন সেটি তার নিজেরই কন্যা তখন তিনি ক্রোধে মত্ত হয়ে পড়েন। তিনি মিরহা কে হত্যা করতে উদ্যত হলেন।



হতবিহব্বল মিরহা নিজের বিপদ বুঝতে পেরে পালিয়ে গেলো। সে করজোড়ে দেবতা কুলে প্রার্থনা করলো তাকে যেন অদৃশ্য অথবা লুকিয়ে ফেলা হয়। তার বিপদ দেখে আফ্রোদিতির দয়া হল। তিনি মিরহা কে পালিয়ে যেতে সাহায্য করলেন। তিনি মিরহা কে রূপান্তরিত করলেন একটি গাছে যাতে রাজা থিয়াস থাকে কখনো খুজে না পায়। তার নামানুসারে গাছটার নাম হয় পরবর্তীতে মীড় গাছ।




নয় মাস পরে গাছের গুড়ি ফেটে সেখান থেকে বের হয়ে আসলো একটি পুত্র সন্তান, যার নাম অ্যাডোনিস। দেবী আফ্রোদিতি ভূমিষ্ঠ অ্যাডোনিস কে দেখলেন এবং তার রুপে তৎক্ষণাৎ মুগ্ধ হলেন। আফ্রোদিতি অ্যাডোনিসকে অন্যভাবে চেয়েছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন অ্যাডোনিস শুধু তারই হোক, তাই তিনি অ্যাডোনিস এর মাতৃভুমিকা নিতে চাইলেন না। তিনি বরং অ্যাডোনিসকে লুকিয়ে ফেললেন একটি সিন্দুকে এবং নিয়ে গেলেন দেবী পার্সিফোন এর কাছে। পার্সিফোন ছিলেন মৃতদের রানী ও পাতালপুরীর দেবী, তিনি অ্যাডোনিস এর অভিভাবকত্ব নিতে সম্মত হলেন।



শিল্পীর চোখে অ্যাডোনিসের জন্ম

কিন্তু ঝামেলা তখনই তৈরি হল যখন অ্যাডোনিস বড় হতে লাগলো, এবং আফ্রোদিতি পার্সিফোন এর কাছে অ্যাডোনিসকে দাবী করলেন। পার্সিফোন ও অ্যাডোনিসকে ভালবেসে ফেলেছিলেন এবং অ্যাডোনিসকে দিতে চাইলেন না।


পার্সিফোনঃ শিল্পীর চোখে


অ্যাডোনিস


আফ্রোদিতিঃ শিল্পীর চোখে

দুই দেবীর মাঝে চরম বিদ্বেষ তৈরি হল, এবং কেউই অ্যাডোনিসকে হারাতে চাইলেন না। অবশেষে জিউস আসলেন মধ্যস্ততাকারী হিসেবে। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন যে অ্যাডোনিস, বছরের ৪ মাস কাটাবে জিউস এর সাথে, ৪ মাস পাতালপুরির রানী এর সাথে , এবং বাকি ৪ মাস প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি এর সাথে।


অ্যাডোনিস ও আফ্রোদিতিঃ শিল্পীর চোখে।


অ্যাডোনিস কোন এক কারনে আফ্রোদিতিকে বেশ পছন্দ করত, এবং তার সাথে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। প্রায়শই অ্যাডোনিস আফ্রোদিতি এর সাথে লুকোচুরি খেলায় মত্ত হতো, আফ্রোদিতি এর রথ তাড়া করে বেড়াত, এবং আফ্রোদিতি কে অনুসরন করতো দুর্গম বন বনানীতে। কিন্তু অ্যাডোনিস এর ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না , অথবা এটাকে আফ্রোদিতি এর ও দুর্ভাগ্য বলা যায় যে একদিন আফ্রোদিতিকে খুজতে যেয়ে অ্যাডোনিস এক হিংস্র বন্য শুকর এর সামনে পড়ে। বলা হয়ে থাকে বন্য শুকরটি প্রেরিত হয়েছিলো আরেক শিকারি দেবী আর্টেমিস এর দ্বারা, যদিও আর্টেমিস এটি কেন করেছিলেন তার কারন অজ্ঞাত। আবার অনেকে মনে করেন অ্যাডোনিসের রুপে ঈর্ষান্বিত হয়ে অ্যারেস প্রেরন করেছিলেন বন্য শুকরটি, কারন অ্যারেস আফ্রোদিতিকে ভালবাসতেন এবং তিনি অ্যাডোনিসের প্রতি আফ্রোদিতির ভালোবাসাকে মেনে নিতে পারেন নি।



বন্য শুকরটিকে অ্যাডোনিস প্রায় কাবু করে ফেলেছিলো। এমনকি অ্যাডোনিসের বর্শা শুকরটিকে বেশ ভালো রকম ভাবেই আহত করেছিলো। কিন্তু কোণঠাসা শুকরটা হঠাৎ করেই ছুটে এসে আঘাত করলো অ্যাডোনিসকে এবং তাকে বিদ্ধ করলো তার দীর্ঘ দাতে। রক্তাক্ত অ্যাডোনিস মাটিতে পতিত হল মুহূর্তেই।



দেবী আফ্রোদিতি তখন বেশ দূরে ছিলেন। তিনি রথে থাকাবস্থাতেই বুঝেছিলেন যে বিপদে পড়েছে অ্যাডোনিস। কিন্তু তিনি যতক্ষণে অ্যাডোনিসকে রক্ষা করতে ছুটে এলেন, ততক্ষনে বেশ দেরী হয়ে গেছে। হাঁটু গেড়ে তিনি বসে পড়লেন অ্যাডোনিসের পাশে। অশ্রুসিক্ত নয়নে চেয়ে রইলেন তার দিকে। অ্যাডোনিসের ঠোটে এঁকে দিলেন এক দীর্ঘ চুম্বন, কিন্তু তখন অ্যাডোনিসের প্রান চলে গিয়েছিলো মর্ত্য থেকে, পড়ে ছিল শুধু অ্যাডোনিসের দেহ খানি।


অ্যাডোনিস ও আফ্রোদিতি

সৌন্দর্যের আর প্রেমের দেবী নিজেও ভোগ করলেন বিচ্ছেদের তীব্র ব্যাথা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস থেকে মুক্তি পেলেন না তিনিও, আপন করতে পারলেন না নিজের প্রেম খানি। অ্যাডোনিস এবং আফ্রোদিতি এর প্রেম কাহিনী তাই মহাকাব্য হয়ে রইলো। প্রাচীন গ্রীসের মেয়েরা প্রতিবছরই পালন করে আসতো অ্যাডোনিস এর জন্য শোকগাঁথা।

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

পৃথিবীর সবচেয়ে বড়, ছোট এবং জনপ্রিয় ডাইনোসররা



সেটি ছিল উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার কথা, যখন ডাইনোসরের প্রথম জীবাশ্ম আবষ্কৃত হয়।এরপর সারা পৃথিবীতে পর্বত বা শিলায় আটকা পড়ে থাকা ডাইনোসরের কঙ্কাল আবিষ্কৃত হতে থাকে। ডাইনোসর এই পৃথিবী নামক গ্রহের প্রাগৈতিহাসিক অধিবাসী।যারা প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে।আর আজকের আধুনিক পাখিরা থেরোপোড ডাইনোসরদের সরাসরি বংশধর বলে ধারনা করা হয়।ডাইনোসর’ নামটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে যার অর্থ “ভয়ঙ্কর টিকটিকি”। ১৮৪২ সালে ইংরেজ জীবাশ্মবিদ রিচার্ড ওয়েন ওদের অমন বিদঘুটে নামটি দেন।


আসুন আমরা সময়েরও মধ্য দিয়ে, ইতিহাসেরও আগে গিয়ে ডাইনোসদের সাথে দেখা করে আসি...

পৃথিবীতে ওদের বিস্তার হয় আজ থেকে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন বছর আগে।আর তখনকার সময়কে বলা হয় মেসোজোয়িক যুগ।তবে এটা “ডাইনোসর যুগ” বলেও বেশ পরিচিত। মেসোজোয়িক এরাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়-

_____________ ট্রায়াসিক
_____________জুরাসিক এবং
______________ ক্রিটেশিয়াস যুগ।

আজ থেকে ২২৫ মিলিয়ন বছর আগের কথা , সেটি ছিল ট্রায়াসিক যুগ,পৃথিবীর সবগুলো মহাদেশ তখন একসাথে জোড়া লাগানো ছিল আর এর নাম ছিল প্যানজিয়া।তখনকার সময় বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রতিকূল ছিল।










জুরাসিক যুগ হচ্ছে সেই সময় যখন এই পৃথিবী তার বুকে সবচেয়ে বড় প্রাণীগুলোর অস্তিত্ব অনুভব করে এবং ডাইনোসররা সেই আদিম পৃথিবীর প্রধান প্রাণীতে পরিনত হয়।সারা পৃথিবী তখন ছিল একটিমাত্র মহাদেশ, আর এই যুগেই এসে তা ভাঙতে শুরু করে, যার পরিসমাপ্তি ঘটে ক্রিটেশিয়াস যুগে এসে। আর যার ফলশ্রুতিতে ডাইনোসররা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ক্রিটেশিয়াস যুগ এ এসে মহাদেশ গুলো আকৃতি নিতে থাকে আর আবহাওয়াও বদলে যেতে থাকে ব্যাপকভাবে।

এ পর্যন্ত ডাইনোসরের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা প্রায়৫০০ আর ডাইনোসরের বিচরণ ছিল পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে, এমনকি এন্টার্কটিকায়ও এর অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া গেছে।বিভিন্ন ডাইনোসর দের ফসিল এর প্রাপ্তিস্থান আর তারিখ এর লিস্ট আছে এই সাইটটিতে।
Dinolist



Jim Jensen এর সাথে Ultrasaurus Leg নামক ডাইনোসর।






এই উপমহাদেশে প্রাপ্ত ফসিল সমূহ।









সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাইনোসর Tyrannosaurus rex





সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত ডাইনোসর Iguanodon.





সবচেয়ে বড় আকারের ডাইনোসর Argentinosaurus hinculensis





সবচেয়ে বৃহৎ মাংসাশী ডাইনোসর Giganotosaurus carolinii





সবচেয়ে ছোট ডাইনোসর Compsognathus longipes




সবচেয়ে চওড়া ডাইনোসর Ankylosaurus magniventris











সবচেয়ে লম্বা গলার অধিকারী ডাইনোসর Mamenchisaurus





সবচেয়ে দ্রুতগামী ডাইনোসর Ornithomiminee








সবচেয়ে চতুর ডাইনোসর Troodontids







সবচেয়ে নির্বোধ ডাইনোসর Stegosaurus




সর্বপ্রথম ডাইনোসর Eoraptor lunensis











সবচেয়ে বিতর্কিত ডাইনোসর Apatosaurus







সবচেয়ে সুরক্ষিত Ankylosaurus ডাইনোসর





আজ থেকে 65 মিলিয়ন বৎসর আগে এই পৃথিবী থেকে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে।তবে ডাইনোসরের বিলুপ্তির সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরিভাবে জানতে পারা যায়নি।লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে আঘাত হানা বিশালকায় ধূমকেতু কিংবা গ্রহাণুখন্ডের কারণে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

অনেকের মতে উল্কার আঘাতে নয় বরং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এদের বিলুপ্তি ঘটে।

এছাড়াও খাদ্যাভাবও একটি বড় কারণ বলে মনে করা হয়।

তাছাড়া সেসময় পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রার এক ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যার সাথে অভিযোজিত হতে না পেরে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয় বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী আবার এসব তত্বকে উড়িয়ে দিয়ে ডাইনোসর দের ডিমের খোসার পুরুত্বকে দায়ী করেন।বিভিন্ন পরীক্ষায় মাধ্যমে দেখা যায় যে, ছয় কোটি বছর আগের ডিমের খোসা ১৪ থেকে ১৫ কোটি বছর আগের ডিমের খোসার চেয়ে অনেক বেশী পুরু ছিল। ফলে ডাইনোসরদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সহ প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেত।কালক্রমে তারা বিলুপ্তির পথে পা বাড়ায় ।

মেডিকেলের ঈশপের গল্প



পুরাতন রীতিঃ এক কুমিরের শখ হল তার ৭ কুমির বাচ্চাকে পড়াবে। তার গ্রামেই শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা ছিল। সে কুমিরকে নিয়ে শিয়ালের পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিলো।সেটা ছিল আবাসিক। যাই হোক, শিয়ালের ছিল কুমিরের বাচ্চার প্রতি বিশেষ লোভ। সে একে একে বাচ্চা খেতে আরম্ভ করলো, এবং যখন কুমির দেখতে আসত,তখন এক বাচ্চাই বারবার দেখাতো।

একদিন কুমিরের সন্দেহ হলো, সে দেখতে চাইলো , সবগুলো বাচ্চাকে পাশাপাশি, কিন্তু ততক্ষনে তো শিয়াল মামা বাকি একটা বাচ্চা খেয়েও ফুট।

সুবচনঃ দুস্ট লোকের কাছে ভালো কাজের ভার দিতে নেই।

মেডিকেল রীতিঃ এক কুমিরের শখ হল তার ৭ কুমির বাচ্চাকে মেডিকেলে পড়াবে। তার জেলাতেই মেডিকেল কলেজ ছিলো, কিন্তু চান্স পাওয়া কি এতো সহজ?না। তার পরে আবার শিয়াল পন্ডিতের কলেজ। রোগীর হিসেব নেই। যাই হোক অনেক কোচিং করে, অনেক টাকা গচ্চা দিয়ে তাদের মেডিকেলে চান্স পাওয়ানো হলো, তাতেও আবার আরেক সমস্যা। ৭ জন সাত মেডিকেলে। তাদেরকেও নানা মতলবে তার জেলার মেডিকেলে আনা হলো। যতই হোক নিজের কাছাকাছি থাকবে।

কিন্তু বাবা কুমির জানতো না যে, একজন বাদের তাদের কেউ মেডিকেলে পড়তে ইচ্ছুক ছিলো না। ফলে কিভাবে ক্লাস ফাকি দেওয়া যায়, সেই চিন্তা। ক্লাসে উপস্থিতি ফরম দেওয়া হত। তারা দেখলো যে, ক্লাসে না থাকলেও এই ফরমে নাম থাকলে কোন সমস্যা হয় না।তো সেই কাজ।

প্রথম দিন তারা একজন অনুপস্থিত থাকলো, দেখল যে কোন সমস্যা নেই। তো একে একে সবাই, যে ছেলেটা পড়তে চাইতো তার উপর ভার দিয়ে, ডেটিং এ টাইম কাটাতে থাকলো। বাকি ছেলেদের ও বিষয় টা খারাপ লাগলো না। তারাও সে একই কাজ করতে থাকলো, একদিন যা ঘটলো তা হল, ভাল ছেলেটা চিন্তা করলো, যাই আমিও একটা জুনিয়র মেয়েকে পড়িয়ে আসি।

তো শিয়াল পন্ডিত ক্লাসে এসে দেখে, যে কেউ নাই!!!!!! আগের ক্লাসেও তো সবাই ছিল।

ও ও ও। তাহলে সবাই অটো ছুটি নিয়ে গেছে, ভালোই। আজ একটু বেশি রোগী দেখা যাবে।

দুর্বচনঃ ছুটির রাজা অটো।
পুরাতন রীতিঃ এক কুমিরের শখ হল তার ৭ কুমির বাচ্চাকে পড়াবে। তার গ্রামেই শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা ছিল। সে কুমিরকে নিয়ে শিয়ালের পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিলো।সেটা ছিল আবাসিক। যাই হোক, শিয়ালের ছিল কুমিরের বাচ্চার প্রতি বিশেষ লোভ। সে একে একে বাচ্চা খেতে আরম্ভ করলো, এবং যখন কুমির দেখতে আসত,তখন এক বাচ্চাই বারবার দেখাতো।

একদিন কুমিরের সন্দেহ হলো, সে দেখতে চাইলো , সবগুলো বাচ্চাকে পাশাপাশি, কিন্তু ততক্ষনে তো শিয়াল মামা বাকি একটা বাচ্চা খেয়েও ফুট।

সুবচনঃ দুস্ট লোকের কাছে ভালো কাজের ভার দিতে নেই।

মেডিকেল রীতিঃ এক কুমিরের শখ হল তার ৭ কুমির বাচ্চাকে মেডিকেলে পড়াবে। তার জেলাতেই মেডিকেল কলেজ ছিলো, কিন্তু চান্স পাওয়া কি এতো সহজ?না। তার পরে আবার শিয়াল পন্ডিতের কলেজ। রোগীর হিসেব নেই। যাই হোক অনেক কোচিং করে, অনেক টাকা গচ্চা দিয়ে তাদের মেডিকেলে চান্স পাওয়ানো হলো, তাতেও আবার আরেক সমস্যা। ৭ জন সাত মেডিকেলে। তাদেরকেও নানা মতলবে তার জেলার মেডিকেলে আনা হলো। যতই হোক নিজের কাছাকাছি থাকবে।

কিন্তু বাবা কুমির জানতো না যে, একজন বাদের তাদের কেউ মেডিকেলে পড়তে ইচ্ছুক ছিলো না। ফলে কিভাবে ক্লাস ফাকি দেওয়া যায়, সেই চিন্তা। ক্লাসে উপস্থিতি ফরম দেওয়া হত। তারা দেখলো যে, ক্লাসে না থাকলেও এই ফরমে নাম থাকলে কোন সমস্যা হয় না।তো সেই কাজ।

প্রথম দিন তারা একজন অনুপস্থিত থাকলো, দেখল যে কোন সমস্যা নেই। তো একে একে সবাই, যে ছেলেটা পড়তে চাইতো তার উপর ভার দিয়ে, ডেটিং এ টাইম কাটাতে থাকলো। বাকি ছেলেদের ও বিষয় টা খারাপ লাগলো না। তারাও সে একই কাজ করতে থাকলো, একদিন যা ঘটলো তা হল, ভাল ছেলেটা চিন্তা করলো, যাই আমিও একটা জুনিয়র মেয়েকে পড়িয়ে আসি।

তো শিয়াল পন্ডিত ক্লাসে এসে দেখে, যে কেউ নাই!!!!!! আগের ক্লাসেও তো সবাই ছিল।

ও ও ও। তাহলে সবাই অটো ছুটি নিয়ে গেছে, ভালোই। আজ একটু বেশি রোগী দেখা যাবে।

দুর্বচনঃ ছুটির রাজা অটো।

গ্রীক পুরাণের মায়াবী সুরসৃষ্টিকারী রহস্যময়ী মৎসকন্যা সাইরেন



মহাসমুদ্রের মৎসকন্যা বা সাইরেন(মারমেইড) ছিল গ্রিকপুরাণের মায়াবিনী গায়িকা। সুরের মায়াজাল সৃষ্টির মাধ্যমে তারা জাহাজের যাত্রীদের মৃত্যুর দিকে আকর্ষণ করতো। তাদের গানের গলা এতই চমৎকার ছিল যে সেই গান নাবিকদের কানে পৌঁছালে নাবিকরা সেই দ্বীপের দিকেই ধাবমান হতো। ফলে সেই জাহাজ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মৃত্যুবরণ করত সবাই। সাইরেন ছিল নদীদেবতা একিলেপাসের কন্যা। হোমারের ওডিসিতে সাইরেনদের ঊর্দ্ধাংশ মানবী এবং নিম্নাংশ পাখির মত দেখতে বলা হয়েছে।

ওডিসি অনুসারে সাইরেন



কিন্তু অন্যান্য সূত্রে সাইরেনদের দেহের ঊর্দ্ধাংশ মানবী এবং নিম্নাংশ মাছের মত বলে জানা যায়। সাইরেনিয়া নামক একটি দ্বীপে ছিল সাইরেনদের বাস।


আর্গোনটরা ( সোনালী ভেড়ার চামড়া সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের দল ) একবার সাইরেনদের দ্বীপ অতিক্রম করতে যাচ্ছিল। তাদের পরিণতির কথা ভেবে দেবী আফ্রোদিতি অর্ফিউসকে সাইরেনদের দ্বীপ অতিক্রমনের সময় তাঁর বীনায় মোহময় সুর সৃষ্টি করতে নির্দেশ দেন। অর্ফিউস ছিল সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব সুর স্রষ্টা।


দেবতাদের পর মরণশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সুরের জাদুকর এই অর্ফিউস। সে এক বিশেষ ধরনের বাশি বাজাত, যেটার নাম ছিল লাইর। দেবতা হারমিসের তৈরি এ বাশি পূর্ণতা পেয়েছে অর্ফিউসের কাছে। অর্ফিউস ছিল দেবতা অ্যাপোলোর পুত্র। অর্ফিউসের মা ছিল ক্যালিউপ। অর্ফিউসের বাস ছিল পিম্পলিয়ায় , যেখানে সে তার শৈশব মা এবং বোনদের সাথে কাটিয়েছে। দেবতা অ্যাপোলো অর্ফিউসকে খুব ভালবাসতেন এবং তিনিই প্রথম অর্ফিউসকে লাইর বাজানো শেখান।


জেসন ছিল আর্গোনট দলের নেতা। জেসনের দল যখন সাইরেনিয়া দ্বীপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো , তখন অর্ফিউস তার বাঁশি বাজানো শুরু করলো । তার সুর সাইরেনদের সুরকে ছাপিয়ে গেলো । নাবিকরা নিরাপদে দ্বীপ পার হতে পারলো ।কিন্তু একজন আর্গোনট জাহাজের পাল ওড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় তার কানে অর্ফিউসের সুর প্রবেশে ব্যর্থ হয়। ফলে সে উন্মাদের মতো জাহাজ থেকে লাফিয়ে সাগরে পড়ে যায়। আফ্রোদিতি অবশ্য পরে তাকেও ঊদ্ধার করেন।


ট্রয়যুদ্ধ শেষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথে মহাসমুদ্র দেবতা পোসিডনের ষড়যন্ত্রে দিকভ্রান্ত অডিসিউসও সাইরেনদের কবলে পড়েন। ফলে তিনি সাইরেনদের দ্বীপ অতিক্রম করার আগে প্রত্যেক নাবিকের কান মোম দিয়ে বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে মাস্তুলের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

ফলে সাইরেনরা প্রথমবারের মতো ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার লজ্জায় তারা সমুদ্রে ডুবে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর পর সাইরেনরা সমুদ্রশিলায় পরিণত হয়। এভাবেই গ্রীক পূরাণের একটি চমৎকার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।